ঢাকা, বাংলাদেশ | জনস্বাস্থ্য সংবাদ
বাংলাদেশে ত্বক ফর্সাকারী প্রসাধনী ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI)-এর পরীক্ষার বরাত দিয়ে আটটি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় পারদ পাওয়ার কথা জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষিত পণ্যগুলোতে পারদের মাত্রা ছিল প্রতি মিলিয়নে ৪৪.৭২ থেকে ১২৩.৩৭ অংশ (ppm)। উল্লেখিত সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা প্রতি মিলিয়নে ১ অংশের তুলনায় এসব মাত্রা অনেক বেশি।
এই তথ্য ত্বকের সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যের নিরাপত্তা, বাজারে অননুমোদিত প্রসাধনীর উপস্থিতি এবং ভোক্তাদের সচেতনতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষায় পারদের উচ্চমাত্রা পাওয়া আটটি পণ্যের নাম হলো—
১. Chandni Whitening Cream
২. New Face Beauty Cream
৩. Navia Beauty Cream
৪. Navia Whitening Cream
৫. Noor Whitening Cream
৬. Dew Beauty Cream
৭. Goree Beauty Cream
৮. Natural Pearl Skin Cream
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এই তালিকাটি প্রকাশিত পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। বাজারে একই নামের সব পণ্য বা একই ব্র্যান্ডের সব সংস্করণকে পরীক্ষিত পণ্য হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। প্রচারের আগে BSTI-এর মূল বিজ্ঞপ্তি থেকে পণ্যের নাম ও পরীক্ষার ফল যাচাই করা জরুরি।
পারদ একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু। কিছু ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে অবৈধভাবে পারদ ব্যবহার করা হতে পারে, কারণ এটি ত্বকের রঞ্জক পদার্থ মেলানিনের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত পারদের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, রঙের পরিবর্তন, ত্বকের ক্ষতি, কিডনির সমস্যা এবং স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গর্ভাবস্থায় পারদের সংস্পর্শ অনাগত শিশুর বিকাশের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তাই দ্রুত ত্বক ফর্সা করার প্রতিশ্রুতি দেয়—এমন পণ্য কেনার আগে সতর্ক থাকা জরুরি।
প্রসাধনী কেনার সময় পণ্যের উপাদান, প্রস্তুতকারকের নাম, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং প্রযোজ্য অনুমোদনের তথ্য যাচাই করতে হবে।
অবিশ্বস্ত অনলাইন বিক্রেতা, অস্বাভাবিক কম দাম, অস্পষ্ট লেবেল এবং অবাস্তব সৌন্দর্যবর্ধক দাবি থেকে সতর্ক থাকুন। সন্দেহজনক পণ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।
কোনো ক্রিম ব্যবহারের পর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নিরাপদ প্রসাধনী নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারে উপাদান পরীক্ষা, আইন প্রয়োগ এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
একই সঙ্গে প্রসাধনী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, আমদানিকারক, বিক্রেতা ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোকেও পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সৌন্দর্যের চেয়ে স্বাস্থ্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ত্বক ফর্সা করার দ্রুত ফলের আশায় নিজের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলবেন না। যাচাইকৃত ও নিরাপদ প্রসাধনী ব্যবহার করুন এবং সন্দেহজনক পণ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: এই প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত BSTI-এর পরীক্ষার ফল সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। প্রকাশের আগে মূল বিজ্ঞপ্তি, পণ্যের সঠিক নাম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পদক্ষেপ যাচাই করুন।