
ঢাকা | ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশে আমদানি করা বিদেশি ফলের ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক-কর কমানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি ও আনারের মতো ফলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সুপারিশটি এখনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনটি ২৭ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাজা ফল আমদানিতে মোট শুল্ক-কর ২০২০-২১ অর্থবছরের ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ হয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে তাজা ফল আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ৫ লাখ ৭১ হাজার টনে নেমে এসেছে।
কমিশনের মতে, অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ও সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিদেশি ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। শুল্ক কমিয়ে আমদানির পরিমাণ বাড়ানো গেলে ভোক্তাদের জন্য দাম কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে ঢাকার বাজারের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কমলার দাম ৩২৫ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এই ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধান এবং খুচরা পর্যায়ে মুনাফার হার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয় না—এমন কিছু তাজা ফলের আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি শুল্ক কমানোর পর ফলের আমদানি, বাজারদর এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপর নিয়মিত নজরদারির কথাও বলা হয়েছে।
শুল্ক-কর কমানোর সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি ফলের আমদানি ব্যয় কমতে পারে। তবে ভোক্তারা প্রকৃতপক্ষে কতটা কম দামে ফল কিনতে পারবেন, তা নির্ভর করবে আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, বাজারের সরবরাহ এবং খুচরা বিক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণের ওপর।