1. admin@somoy71.com : admin :
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু ছেড়ে যাইবা যদি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

চপল মাহমুদ ঢাকা ও বিন্দু তালুকদার সুনামগঞ্জঃ
‘গাড়ি চলে না চলে না’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু’, ‘আমি মিনতি করিরে’, ‘প্রাণে সহে না দুঃখ বলব কারে’, ‘বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ’- এমন অসংখ্য কালজয়ী গানের জনক বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম। শুধু তাই নয়; ‘আমি বাংলা মায়ের ছেলে’, ‘শোষক তুমি হও হুশিয়ার’, ‘চলো এবার সাবধানে’, ‘তোমার কি দয়া লাগে না’, ‘তুমি মানুষ আমিও মানুষ’- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের পথে পথে ঘুরে এসব গান গেয়ে সৃষ্টি করেছেন গণজাগরণ, উজ্জীবিত করেছেন মানুষকে। ভাটির পুরুষখ্যাত কিংবদন্তি এই শিল্পীর চলে যাওয়ার আজ ১১ বছর। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি সিলেট শহরের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ইহলোক ত্যাগ করেন।

বাউল আবদুল কমির সশরীরে না থাকলেও তার সৃষ্টি ও সুরধারা সব স্তরের কোটি কোটি মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। তার ১১তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাউলের সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজান ধলের গ্রামের বাড়িতে দুপুরে মিলাদ মাহফিল, রাতে সীমিত পরিসরে বসবে বাউল আসর। করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন সংগঠন পৃথক পৃথক ভার্চুয়াল কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

স্বাধীনতাপূর্ব আন্দোলন-সংগ্রামেও শাহ আবদুুল করিম গণসংগীত গেয়ে গণজোয়ার সৃষ্টি করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানরা মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে যখন বৃহত্তর সিলেটে গণসংযোগে আসতেন তখন তাদের সফরসঙ্গী হতেন শাহ আবদুল করিম। ১৯৫৫ সালে সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রি ময়দানে প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীর সিলেট আগমন উপলক্ষে জনসভাতেও গণসংগীত গেয়েছিলেন শাহ আবদুল করিম।

১৯৫৭ সালে ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে তার গান শুনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন- ‘তুমি ভবিষ্যতে গণমানুষের মহান শিল্পী হবে’। সেদিন গণসংগীতে মুগ্ধ হয়ে ১৮৫ টাকা পুরস্কারও দেন ভাসানী। ১৯৬৭ সালে সুনামগঞ্জে এক জনসভায় আবদুল করিমের গান শুনে তাকে ১১০০ টাকা দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন- ‘আমি যতই করিম ভাইকে দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। এ দেশের উন্নয়নে আপনার মতো গুণী শিল্পীর প্রয়োজন অনেক।’ পরে ১৯৬৯ সালে আবারও সুনামগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর সভামঞ্চে শাহ আবদুল করিম গণসংগীত পরিবেশন করেন। তার গানে আবেগে-আপ্লুত হয়ে বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে মাইকে বলেছিলেন- ‘শেখ মুজিব বেঁচে থাকলে করিম ভাইও বাঁচবে।’ এ সময় তিনি শাহ আবদুল করিমকে ৫শ টাকা উপহার দেন।

হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার উজান ধল গ্রামে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন বাউল শাহ্ আবদুল করিম। আমৃত্যু তিনি ওই গ্রামেই ছিলেন। তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সহজ-সরল। এক সময় নিজ বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘শাহ আবদুল করিম সংগীতালয়’। তার রচিত ভাটিয়ালী, মুর্শিদি, দেহতত্ত্ব, গণসংগীত ইত্যাদি অসংখ্য গান দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সমাজ পরিবর্তনের স্বাপ্নিক এই বাউল গানে গানে ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে অর্ধশতাব্দীরও বেশি লড়াই করেছেন। এ জন্য মৌলবাদীদের হাতে নানা লাঞ্ছনারও শিকার হয়েছিলেন।

গানের মধ্যে প্রাণের সন্ধান পাওয়া শাহ্ আবদুল করিম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদকসহ (২০০১) পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরী পদক (২০০০), মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার (২০০৪), সিটিসেল-চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননা মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (২০০৫), বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতি সম্মাননা (২০০৬), খান বাহাদুর এহিয়া পদক (২০০৮), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা (২০০৮), হাতিল অ্যাওয়াডর্স (২০০৯), এনসিসি ব্যাংক এনএ সম্মাননা ইত্যাদি। তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে আফতাব সংগীত, গণসংগীত, কালনীর ঢেউ, ধলমেলা, ভাটির চিঠি, কালনীর কূলে, শাহ আব্দুল করিম রচনাসমগ্র উল্লেখযোগ্য।

শাহ আবদুুল করিম পরিষদের সভাপতি ও তার ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত বাবার নামে দিরাইয়ে একটি সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। উপজেলা শহরে শাহ আবদুল করিম একাডেমি গড়ার জন্য একবার আলোচনা হয়েছিল, তবে তা আলোর মুখ দেখেনি।’ তিনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের বাড়িতে দুপুরে মিলাদ মাহফিল, রাতে সীমিত পরিসরে বাউল আসর বসবে। করোনা ভাইরাসের কারণে বড় কোনো কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়নি এবার।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব