1. admin@somoy71.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০, ১১:০১ অপরাহ্ন

দায়টা কে নিবে?

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

করোনা, বন্যা, সিম কোম্পানি, নিম্নবিত্ততা, নাকি নীতি নির্ধারক সরকার? এমন হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারন শিক্ষার্থীদের মাথায়। তাছাড়া এরকম হাজারো শিক্ষার্থী আছে, যাদের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ক্লাস করতে পারছে না, হয়তো এই ভাবেই ইতি ঘটবে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনে। এই মহামারী করোনা যেন জীবনের অনেক হিসাব নিকাশই পাল্টে দিয়েছে আর তার দাম দিতে হচ্ছে অসহায় শিক্ষার্থীদেরও। এই মরনঘাতী করোনার কারনে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বন্ধ থাকায় কলেজ, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলো অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে আর তাতে করে অনেক শিক্ষার্থী এই প্রতিকূলতা চাইলেও কাটিয়ে উঠতে পারছে না কারন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অনেক দারিদ্র্য ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেই আসেন আর তারা কেউই পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পড়াশোনা করেন না তাছাড়া পড়াশোনার জন্য তাদের বিভিন্ন প্রাইভেট-টিউশনি, কোচিং আবার কাউকে পার্ট-টাইম জব করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এই মরন ঘাতী করোনার কারনে প্রতিটা শিক্ষার্থীকে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে আসতে হয়েছে এতে বন্ধ হয়ে গেছে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার একমাত্র অবলম্বনও। তাছাড়া করোনা কালীন সময়ে যে বড় বাজেট সরকার নির্ধারন করেছেন যা “৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা যা জিডিপির ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও এই বড় বাজেটে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কৃষি ও স্বাস্থ্যখাতকে কিন্তু বাড়ানো হয়েছে ইন্টারনেট বিল, কলরেট এবং অন্যান্য দ্রব্যে। যে দারিদ্র্য পরিবারগুলো নিজেই দুমুঠো ঠিকঠাক খেতে পান না তাদের কাছে সন্তানের অনলাইন ক্লাস বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই না। আর সেই বিলাসিতার মতো অনলাইনে ক্লাস করার জন্য ইন্টারনেট বিলের টাকা কিভাবে দিবেন সেটাই এখন প্রশ্ন!! একদিকে যেমন করোনা অন্য দিকে বন্যা চাইলেও কোথাও কাজ পাওয়ার আশা নেই। আর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কথা বলাই বাহুল্য তারা না পারে হাত পাত্ত্বে না পারে সব ধরনের কাজ করতে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পরতে হচ্ছে অসহায় শিক্ষার্থীদের পরিবারকে কেউ কেউ তাদের শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করে তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ইন্টারনেট বিলের খরচ যোগাচ্ছেন। দীর্ঘ পাঁচ মাস যাবত ইন্টারনেট বিল কম কিছু নয় তাছাড়া যারা বাসায় শুধুমাত্র অনলাইনে ক্লাস করার জন্য ইন্টারনেট-ওয়াইফাই নিচ্ছে তাদের একবারে গুনতে হচ্ছে ৫-৬ হাজার টাকা আর প্রতিমাসের টাকা সেটা আমাদের সবারই জানা আবার তাতে যদি ইন্টারনেট বিল দিন দিন বেরেই চলে তাহলে-তো আর কথাই নেই…
আগে আমাদের প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরী তবেই আমরা শিক্ষিত জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখতে পারি।
তাই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সাধারন শিক্ষার্থীদের হয়ে আমার আকুল আবেদন আপনি চাইলেই এইসব অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য
(১) বৃত্তি-ভাতা প্রদান করতে পারেন
(২) শিক্ষা লনের সুযোগ করে দিতে পারেন
(৩) পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন যাতে করে সবাই পড়াশোনা নিজ খরচে চালিয়ে যেতে পারে
(৪) ইন্টারনেট বিল এবং কলরেট কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
যাতে সাধারন শিক্ষার্থীদের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে ইন্টারনেট বিল দিতে না হয়। অতএব, সরকারের কাছে অসহায় এসব শিক্ষার্থীদের আকুল আবেদন সরকার যেন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাঝপথে ঝড়ে পরার হাত থেকে রক্ষা করেন। এতে জাতি এবং সমাজ দুটোই উপকৃত হবে।

লিখেছেনঃ
তাসনিয়া জাহিন সুমি
বিতার্কিক
আইন বিভাগ

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব