1. admin@somoy71.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

করোনা মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুবকদের সম্পৃক্ত হতে হবে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্টঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুবকদের স্থিতিশীল ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ধারণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে যুবকদের স্থিতিশীল ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ধারণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পৃক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। প্রাণবন্ত যুবকরা তা দেখাতে সক্ষম হবে বলে আমরা আশা করি। ’ গতকাল বিকালে দুই দিনব্যাপী ‘ঢাকা-ওআইসি ইয়থ ক্যাপিটাল ২০২০’-এর অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

খবর বাসস। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা দেখা যাচ্ছে যে, প্রাকৃতিক পরিবেশের লালিত মানুষ এই মহামারীর সঙ্গে ভালোভাবেই লড়াই করছে। তাই আমাদের অবশ্যই দৈনন্দিন জীবনে মৌলিক প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ’ তিনি বলেন, কভিড-১৯-পরবর্তী পরিস্থিতি ‘বৈশি^ক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের’ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন এভাবে হতে পারে- প্রথমত উদ্বেগের কারণে সুরক্ষাবাদের নামে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আরও নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসন ও ভিসা নীতিমালায় আরও কঠোর হতে পারে। তবে এটি মহামারী মোকাবিলার জন্য বৈশি^ক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে। দ্বিতীয়ত এটা পরিষ্কার যে. কভিড-১৯-এর কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি ২০০৮-২০০৯-এর অর্থনৈতিক সংকটকে ছাড়াবে। তবে নেটওয়ার্কযুক্ত অর্থায়ন ও সম্পদ সৃষ্টির নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তৃতীয়ত এরূপ অর্থনীতির ওপর এত বড় অভিঘাত গত কয়েক দশকেও দেখা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ মহামারী সর্বত্র সরকার, প্রাইভেট সেক্টর, আন্তর্জাতিক কমিউনিটি এবং অন্য নেতৃবৃন্দের কাছে অস্বাভাবিক দাবি জানাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘একটি সংকটের সময়ে কী ধরনের নেতৃত্ব প্রয়োজন তা পুনর্নির্ধারিত পরিকল্পনায় হয় না বরং এ প্রক্রিয়ায় জড়িত মানুষের আচরণ ও মানসিকতায় তা গড়ে ওঠে। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে নিরাপত্তা অর্জন, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন উন্নতি ও লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ ও নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী তিন দশকে বিশ্বব্যাপী তিনটি দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির একটি হিসেবে বিশ্বব্যাপী মূল্যায়ন অভিক্ষেপণ বাংলাদেশের দিকে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ২৩তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর জন্য তাঁর সরকারের ভিশন-২০২১-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু ৫৩ মিলিয়ন তরুণের ডিজিটাল সৃজনশীলতা উন্মোচনের নীলনকশা নয়। বরং এটি বাংলাদেশের প্রাক-কভিড-১৯ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮.১৩ শতাংশ পর্যন্ত দ্রুত ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি ওআইসি এবং এর সব সদস্য রাষ্ট্রকে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত এই জনগোষ্ঠীর প্রতি তাদের উদার সহায়তা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানান

তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে অস্বীকার করা সত্ত্বেও, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্যে তাদের মাতৃভূমিতে তাদের নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।
ওআইসি মহাসচিব ইউসুফ বিন আহমদ আল-ওসাইমেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুুল মোমেন, আজারবাইজানের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আজাদ রহিমভ, কাতারের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী সালাহ বিন গনিম আল আলী, ইসলামিক কো-অপারেশন ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি তাহা আইহান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এ সময় বক্তব্য দেন।

সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে : আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, দলীয় নেতা-কর্মীদের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবার কাছে আমার নির্দেশনা, করোনাভাইরাস ও বন্যায় মানুষের সেবা করে যাবেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের ফোনে ভিডিওকলে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে জয়েরও (সজীব ওয়াজেদ জয়) জন্মদিন। তার জন্য আমার অনেক অনেক দোয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠনের পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, এ করোনাভাইরাসের সময় তারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে। এ ছাড়া অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন কাজ দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, এ করোনাভাইরাস থেকে যেন সবাই মুক্তি পায় এজন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আজকে রাজনীতিকে বিতর্কিত করার জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের সেই অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে সততা, শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং আদর্শের নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে। মনে রাখবেন স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বসে নেই। তাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সব সময় সজাগ থাকতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠান শেষে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামান করে দোয়া করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। গতকাল সকাল ৮টায় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসনে জোর দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বন্যা শেষ হলে সময়মতো কার্যকর পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নিয়ে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। গতকাল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। কয়েক সপ্তাহ ধরে ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। অন্যপ্রান্তে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে উপস্থিত থেকে বৈঠকে অংশ নেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা। বৈঠক শেষে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পুনর্বাসন প্রোগ্রামগুলো যেন খুব ভালো হয়, খুব ইফেকটিভলি ও টাইমলি হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জোর দিতে বলেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বন্যা নিয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে কী করণীয়, তাও বলেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের ক্লিয়ার ইনস্ট্রাকশন দিয়ে দিয়েছেন বন্যার্তদের যত রকমের সাহায্য-সহযোগিতা দরকার সব করতে। কভিডের এই সময় যেহেতু বন্যা, তাই একটু বেশি কেয়ারফুল থাকতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বন্যায় আমন ধানের ক্ষতি হলেও জমিতে পলি পড়ার কারণে বন্যার পরের সুফলটা নিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, উঁচু এলাকায় আমনের ফলন ভালো হবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইনস্ট্রাকশন দিয়েছেন রোপা আমনে যেন আমরা খুব অ্যাটেনটিভ থাকি। বন্যাদুর্গত এলাকায় স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বিশেষ করে গরু-বাছুরকে যে ভ্যাকসিন দেওয়ার, সেগুলো যেন সব নিয়মিত দেওয়া হয়, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কভিডের কারণে ত্রাণ সরবরাহের জন্য সরকারের প্রস্তুতি ছিল। সবকিছু ওপেন করে দেওয়ায় ত্রাণের চাহিদা কমে গেছে। ভালো একটা রিলিফ আমাদের কাছে মজুদ আছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল থেকে জুন) মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। তিনি বলেন, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চারটি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২৮টি। বাস্তবায়ন করা হয়েছে ২০টি। ৮টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুটি সামরিক শাসনামলে জারি করা যে অধ্যাদেশগুলো এখনো আইনে পরিণত হয়নি, সেগুলোকে আইনে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে আগামী তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা আসছে তা হলো, যতগুলো অধ্যাদেশ আছে যেগুলোকে আইনে পরিণত করতে হবে বলে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল তা তিন মাসের মধ্যে ফাইনাল করে নিতে হবে। আইনমন্ত্রী মহোদয়ও এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব