1. admin@somoy71.com : admin :
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২০, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

ফাহিম হত্যাকাণ্ড : সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

কামরুজ্জামান হেলাল,যুক্তরাষ্ট্র
রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাও’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের অ্যাপার্টমেন্টে বাংলাদেশি রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাও’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহর খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। তবে তদন্ত স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এমনকি খুনের মূল মোটিভ সম্পর্কেও ‍কিছু বলছে না এনওয়াইপিডি।

গত বুধবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার কোনো এক সময় ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এনওয়াইপিডি। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বোঝা যাচ্ছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিই খুনি। কিন্তু তিনি পাগলের ভান ধরেছে। তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে পুরো ঘটনার তথ্য বের করে আনার চেষ্টা করছে সদস্যরা।’

advertisement
এদিকে ফাহিমের পরিবার বলছে, প্রকৃত খুনিকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাদের মন শান্ত হবে না। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন তারা।

এর আগে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানায়, বাংলাদেশি রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাও’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহর খুনে স্যুট-টাই-গ্লাভস-মাস্ক পরিহিত এক ব্যক্তি জড়িত। এ ছাড়া ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্টে তার হত্যাকাণ্ডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। তিনি ফাহিম যে ভবনে বসবাস করেন সেটির সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই বাছাই করা হয়েছে। গত সোমবার শেষবার ফাহিম তার ঘরে ঢোকেন। এরপর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। তিনি যখন বাসায় ঢুকছিলেন, তার পেছন পেছন স্যুট-টাই-গ্লাভস-মাস্ক পরিহিত এক ব্যক্তিকে ঢুকতে দেখা যায়। সন্দেহভাজন খুনি ‘অত্যন্ত পেশাদার’ বলে মন্তব্য করেছে এনওয়াইপিডি।

advertisement
এনওয়াইপিডি আরও জানায়, ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেছে। এ ছাড়া খুনের কারণ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়িক লেনদেনের জেরে ফাহিমকে খুন করা হতে পারে। খুনিকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে। তদন্ত শেষ কিংবা হত্যাকারী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রকাশ করবে না।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নিউ ইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে দুটি লক্ষ্য থাকে। একটি হচ্ছে, মাফিয়া স্টাইলে অন্যদের ভয়াবহতার বার্তা দেওয়া। অন্যটি হচ্ছে ব্যক্তিকে একদম শেষ করে দেওয়া। শেষের যুক্তিটিই এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে। হত্যাকারী ফাহিমের মরদেহ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভর্তি করে। এ ফাঁকে ধুয়ে মুছে রক্ত পরিষ্কার করে। ঘটনাস্থলে তেমন রক্ত পাওয়া যায়নি। কেউ আসছে বা দরজায় বেল দিচ্ছে, এমন ঘটনার পর হত্যাকারী সাততলা অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে যায়। এ জন্য তাকে চাবি ব্যবহার করতে হয়েছে। ফলে এ ধরনের এক্সিট পরিকল্পনা আগে থেকেই নেওয়া ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।’

এনওয়াইপিডি’র এ সদস্য আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক করাতে ও অন্যান্য স্থানে আঙুলের ছাপ পেয়েছে পুলিশ। পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নামলেও নিউইয়র্ক শহর এখন সিসি ক্যামেরার আওতায়। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও চিত্র দেখে হত্যাকারীকে চিহ্নিত করা গেছে।’

ফাহিম নিউইয়র্কের একটি হাই স্কুলে পড়ার সময় ‘উইজ টিন’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে বেশ অর্থ আয় করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলেন। এর পর ম্যাসাচুয়েটস স্টেটের বেন্টলি ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার ইনফরমেশন সিস্টেমে স্নাতক করেন ফাহিম। উদ্ভাবনী মেধাসম্পন্ন ফাহিম কোনো কোম্পানিতে চাকরির চেষ্টা না করে মা-বাবার জন্মস্থান বাংলাদেশে ছুটেন।

২০১৫ সালে আরও দুজনের সঙ্গে মিলে ঢাকায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের অ্যাপ ‘পাঠাও’ চালু করেন। রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে পাঠাও চট্টগ্রাম ও সিলেটে বিস্তৃত হয়। একপর্যায়ে তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে নেপালেও সম্প্রসারিত হয়। এমন অবস্থায় ঢাকা ছাড়েন ফাহিম। পরে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নাইজেরিয়ায় লাগোসে যৌথ উদ্যোগে অ্যাপভিত্তিক মোটরবাইক রাইড সার্ভিস ‘গোকাডা’ চালু করেন ফাহিম। সেই ব্যবসা জমে উঠলেও নানা কারণে তা বছরখানেক পর বন্ধ হয়ে যায়। এর পর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে একটি নতুন কোম্পানি চালু করেছেন বলে তার এক নিকটাত্মীয় জানালেও সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু মিলেনি। ফাহিম বিনোদনমূলক অ্যাপারেটাস কোম্পানি ‘কিকব্যাক’র প্রতিষ্ঠাতা ও ‘অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটল’রও সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব