1. admin@somoy71.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০, ১০:৫০ অপরাহ্ন

ডেল কার্নেগি কি আত্মহত্যা করেছিলেন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

পৃথিবীর অধিকাংশ মহান অর্জন তাদের দ্বারাই সম্ভব হয়েছে যারা সফলতার সকল আশা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন।– ডেল কার্নেগি
ডেল কার্নেগি স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন নাকি আত্মহত্যা করেছিলেন— এ বিতর্ক অনেক দিনের। বিষয়টি প্রথম জানতে পারি ড. আব্দুররহমান আরিফীর আরব-বিশ্বের বেস্ট সেলার বই Enjoy Your Life পড়ে। (মূল বইটি আরবিতে লেখা) লেখক এই বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন— ছাত্রজীবনে তিনি ডেল কার্নেগির রীতিমতো ভক্ত ছিলেন, তাঁর বই পড়ে অনেক কিছু জেনেছেন এবং তা প্রয়োগ করে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছেন। পরে এক সময় যখন জানতে পারলেন— যে লেখক এত সফলতার পথ বাতলিয়েছেন, ইতিবাচক চিন্তার বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তিনি নিজেই আত্মহত্যা করেছিলেন; তখন তিনি প্রচণ্ড হোঁচট খান এবং এ বিষয়ে নিজেই গবেষণা শুরু করেন— শেষে মুহাম্মদ স. এর জীবনভিত্তিক বইটি লিখেন।

তখন থেকেই বিষয়টি মাথায় ঘুরপাক খাওয়া শুরু করে। ডেল কার্নেগির বই আমিও একসময় নিয়মিত পড়তাম, পড়ে-পড়ে মুগ্ধ হতাম। অন্য কারও আত্মহত্যার বিষয় হলে হয়তো এ নিয়ে কৌতূহল এতটা হতো না— এখান থেকেই জানার চেষ্টা। ডেল কার্নেগিকে যারা জানেন, সারা বিশ্বেই মূলত তারা দুভাগে বিভক্ত— এক পক্ষ বিশ্বাস করেন তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন, অপর পক্ষ তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যুর পক্ষে।

ডেল কার্নেগি সম্পর্কে একটু বলে নেওয়া যাক। ডেল কার্নেগি ১৮৮৮ সালে মিসৌরিতে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করে নিজের মেধা, পরিশ্রম আর আত্নবিশ্বাস দিয়ে একজন সফল লেখক, অধ্যাপক ও আত্ম-উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণমালার উদ্ভাবক হিশেবে খ্যাতির চূড়ায় উঠে আসেন। তাঁর লিখিত ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত How to Win Friends and Influence People এবং ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত Stop Worrying and Start Living বই দুটো এখনও বেস্ট সেলার বইয়ের তালিকায় থাকে। প্রথম বইটি তাঁর জীবদ্দশায়ই বিশ্বের একত্রিশটি ভাষায় প্রকাশিত হয়ে ৫০ লক্ষেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এন্ড এসোসিয়শনের মিউজিয়ামে তাঁর মৃত্যুর কারণ লেখা আছে– ১৯৫৫ সালের ১লা নভেম্বর তিনি হকিন্স রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুসনদেও একই কারণ লেখা আছে। তাঁর মৃত্যুর পরের দিন নিউয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত মৃত্যুর খবরটি ছিল এরকম— ডেল কার্নেগি, যার বই “How to Win Friends and Influence People” কিংবদন্তিতুল্য বেস্টসেলার বই, গতকাল ফরেস্টহিলে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। আগামি ২৪ নভেম্ভর তাঁর বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হতো ।

তাঁর অনুরাগীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না যে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। তাঁরা মনে করেন—যিনি একজন ইতিবাচক চিন্তার জনক হিশেবে, শান্তি ও সফলতার দূত হিশেবে বিশ্বের অগণিত মানুষের হৃদয়ে সন্মানের স্থান দখল করে আছেন, যার জীবনঘনিষ্ঠ রচনা এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে; তিনি কখনও আত্মহত্যা করতে পারেন না। বিষয়টি সম্পূর্ণ অমূলক, অপ্রয়োজনীয় একটি আলোচনা; যাদের খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই তারাই এর চর্চা করে।

তাঁর আত্মহত্যার বিষয়টি কীভাবে আলোচনায় আসে তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও অনেকেই মনে করেন তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ডেল কার্নেগি এন্ড এসোসিয়শন ব্যবসায়িক স্বার্থে বা তাঁর সন্মান রক্ষার্থে আত্মহত্যার বিষয়টি শুরুতেই গোপন রাখে। ১৯৩১ সালে তাঁর প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করলে কিছুদিনের মধ্যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ডিভোর্সের মাধ্যমে তারও অবসান ঘটে। তাদের মতে, যিনি নিজের স্ত্রীর সাথে মৌলিক মানবিক সম্পর্ক রক্ষা করতে পারেননি, তাঁর জন্য আত্মহত্যা করাটা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় না। অনেকেই দাবি করেন, তাঁর আত্মহত্যার ছবিও আছে।

বিষয়টি যত বিতর্কিতই হোক— তাঁর রচনা, ব্যক্তিজীবন বা সামাজিক জীবন কোনোটাই আত্মহত্যার বিপক্ষে প্রমাণ হতে পারে না। তিনি অন্যকে যতই সুখ-সফলতার কায়দা-কানুন শেখান না কেন, নিজের জীবনে কতটুকু সুখী ছিলেন; এই প্রশ্ন থেকেই যায়। তাঁর রচনাসম্ভার সুখী হওয়ার যত কলা-কৌশলেই সমৃদ্ধ হোক না কেন—প্রকৃত মানুষ হওয়ার পথ কি তিনি দেখিয়েছেন? তিনি সুখী হওয়ার ব্যক্তিস্বার্থ আদায়ের কলা-কৌশলের মাস্টার ছিলেন—মানবজীবনের প্রকৃত লক্ষ্যের পথপ্রদর্শক ছিলেন কি? ব্যক্তি সেবার কথা বলেছেন— মানবতার সেবার কথা বলেছেন কি? সেক্যুলার মানবতার লক্ষ্য ক্ষণস্থায়ী আনন্দ আর সফলতা— তাঁর রচনা কি এর বাইরে?

অনেককেই বলতে শোনা যায়— তাঁর বই পড়ছেন কেন? তিনি নিজেই তো আত্মহত্যা করেছেন। এটাও একধরনের বাড়াবাড়ি। তিনি আত্মহত্যা করতেও পারেন, এতে তাঁর রচনাগুলো মূল্যহীন হয়ে যায়নি। তাঁর সুন্দর পরামর্শগুলো আমাদের জীবনে প্রয়োগ করে সুখ আর সফলতার সন্ধান করতেই পারি।

পুনশ্চ: Enjoy Your Life বইটি মোটিভেশনাল বা সুখ ও সফলতার গাইড হিশেবে অনবদ্য রচনা; যা আমার দৃষ্টিতে ডেল কার্নেগির রচনার চেয়ে ঢের উন্নত। দুঃখের বিষয়, বইটির একাধিক বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হলেও তেমন মানসম্মত অনুবাদ চোখে পড়েনি।

লিখেছেনঃ
আরিফ রব্বানী খান
সাবেক সহকারী অধ্যাপক
ডি.আই.ইউ
আইন বিভাগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব